জুলাই-আগস্ট গণহত্যা মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রায় সম্পন্ন বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
বুধবার (২ এপ্রিল) এক বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে এমন তথ্য জানিয়েছেন তিনি।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, প্রধান আসামি শেখ হাসিনা এবং তার সাথে পুলিশের সাবেক প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ মামুন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। এদের তদন্ত রিপোর্ট অলমোস্ট ডান। এ মাসের প্রথমার্ধে রিপোর্টগুলো হাতে পেয়ে যাবো। এরপর ফরমাল চার্জ দাখিলের প্রক্রিয়ার মধ্যে চলে যাবো।
আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যপ্রমাণ নিয়ে মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, তাদের বিরুদ্ধে যে ধরনের অকাট্য সাক্ষ্যপ্রমাণ যা কিছু আছে সেটা দিয়ে বহুবার তাদের বিরুদ্ধে বহুবার অপরাধ প্রমাণ করা সম্ভব এবং এটা কোর্ট রুমে করে দেখাবো, ইনশাআল্লাহ।
‘আমাদের সাক্ষ্যপ্রমাণগুলো অকাট্য। প্রত্যক্ষদর্শী, ভিকটিম, যারা একদম ময়দানে থেকে সম্মুখসারিতে লড়াই করেছেন তারা এসে সাক্ষ্য দেবেন। এই সাক্ষ্য হবে এতটাই অকাট্য যে এখান থেকে কাউকে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ আইনের মধ্যে আর থাকবে না। সুতরাং আমরা সাকসেসফুলি তাদের বিরুদ্ধে অপরাধগুলো প্রমাণ করতে পারবো’ বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।
এর আগে ২৭ মার্চ সাভারের আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোর মামলার বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাংবাদিকদের চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছিলেন, এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের খসড়া ইতোমধ্যে আমাদের হাতে চলে এসেছে। হয়তো কয়েক দিন সময় লাগবে মাত্র। আদালত ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দিয়েছেন। কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত হয়ে গেছে। ঈদের পর আনুষ্ঠানিকভাবে দাখিল করা হবে। অনানুষ্ঠানিকভাবে আমাদের হাতে চলে এসেছে। সে কারণে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দিয়েছেন। আমরা আশা করছি, এই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগের মধ্য দিয়েই হয়তো আনুষ্ঠানিক বিচারকাজটা শুরু করা যাবে। ’
চানখাঁরপুলের মামলার বিষয়ে তিনি জানান, চানখাঁরপুল–সংক্রান্ত মামলার খসড়া তদন্ত প্রতিবেদন চলে এসেছে। এটারও ফিনিশিং টাচ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ঈদের পর এটারও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে।